সরকারি আদেশ উপেক্ষা: আবাসিক এলাকায় ‘স্কুল বাণিজ্যে’ জিম্মি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক
পবিত্র রমজান মাস শুরু হলেও থামেনি রাজশাহীর তালাইমারী এলাকার ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা নামী-দামী স্কুলগুলোর কার্যক্রম। সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রমজানেও পুরোদমে খোলা রাখা হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। এমনকি ছুটির দিন শনিবারেও বিরাম নেই এসব ‘শিক্ষা বাণিজ্যের’।
সরেজমিনে রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ক্যামব্রিয়ান, নর্থ পয়েন্ট স্কুলসহ বেশ কিছু বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবাসিক এলাকার ভবন ভাড়া নিয়ে বছরের পর বছর কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব স্কুলের নিজস্ব কোনো খেলার মাঠ নেই, নেই শরীরচর্চার নূন্যতম ব্যবস্থা।
বরং আবাসিক এলাকার সরু রাস্তায় যত্রতত্র স্কুল ভ্যান ও অভিভাবকদের ব্যক্তিগত যানবাহনের কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগেই থাকে। শুক্রবার বাদে বাকি ছয় দিনই এই এলাকা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
সেহরির ক্লান্তি নিয়ে স্কুলে শিশুরা সবচেয়ে অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চলতি রমজান মাসে। কোমলমতি শিশুরা সেহরির সময় বাবা-মায়ের সাথে জেগে থাকে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ক্লান্ত শরীর নিয়েই সাতসকালে ছুটতে হচ্ছে স্কুলে। এতে শিশুদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এক ভুক্তভোগী অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে সিটি নিউজ রাজশাহীকে বলেন, "সরকার স্কুল বন্ধের নির্দেশনা দিলেও এরা তা মানে না। শিশুদের ওপর এই জুলুম দেখার যেন কেউ নেই। আবাসিক এলাকায় স্কুল খুলে এরা বাণিজ্য করছে, আর আমাদের সন্তানদের শৈশব নষ্ট হচ্ছে।"
ক্ষমতার উৎস কোথায়? জনমনে এখন বড় প্রশ্ন—সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করার সাহস এসব প্রতিষ্ঠান কোথায় পায়? কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যেরও অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো এবং যানজট সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ তৈরি করলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষের দাবি, এই তথাকথিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর "ক্ষমতার খুঁটি" কোথায় তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। অনতিবিলম্বে এসব স্কুলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি এবং এলাকার যানজট নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।