সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক : কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট সুব্রত কুমার বালা: অফিসে জন্মদিন উদযাপনে সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘন,শাস্তির দাবি উঠলো।
কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রাজশাহী কার্যালয়ের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত) সুব্রত কুমার বালা গত ২৪ নভেম্বর অফিসে জন্মদিন উদযাপন করেছেন।
অফিসের কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের সঙ্গে কেক কেটে জন্মদিন পালন ও ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নেটিজেন ও কর্মকর্তা সমাজে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়,ডেপুটি কমান্ড্যান্ট সুব্রত কুমার বালা তার অফিস কক্ষে সহকর্মীদের সঙ্গে কেক কেটে খাচ্ছেন, জন্মদিনের শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন এবং পরে ফটোসেশনও করেছেন। ওইদিন দুপুরে Masud Vicky নামের ফেসবুক ব্যবহারকারী তার ফেসবুক আইডি থেকে এই ভিডিওসহ একটি পোস্ট দেন। পোস্টে লেখা ছিল“সকল গ্লানি মুছে যাক,ভবিষ্যৎ দিনগুলো হোক আরো রঙিন,নির্মাণ আনন্দে ভরে উঠুক প্রতিদিন। শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধেয় স্যার সুব্রত কুমার বালা কমান্ড্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত)।”
সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ:
এ ঘটনায় অনেক কর্মকর্তা এবং সমাজের বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছেন,একজন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা কি সরকারি অফিসে ব্যক্তিগত জন্মদিন উদযাপন করতে পারেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন,
> “এই কর্মকর্তা নিজেদেরকে রাজা মনে করেন। আমরা সহকর্মীরা প্রজা। তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যায় না। আমরা অনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছি।”
অভিযোগের মূল বিষয় হলো:
সরকারি অফিসের সম্পদ ও সময় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত জন্মদিন উদযাপন করা।
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করা।
আচরণবিধি ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী ব্যবহার,যা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মানহানি ঘটায়।
ডেপুটি কমান্ড্যান্টের বক্তব্য :
সুব্রত কুমার বালা জানান,“অফিসের কর্মকর্তারা আমাকে সারপ্রাইজ দিয়েছেন। আমরা অফিস শেষে ২ টা ৩০ মিনিটে ছোট পরিসরে কেক কেটেছি। কোনো বিধি লঙ্ঘন করিনি।”
তবে,জন্মদিন উদযাপনের সময়কার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারকদের নজরে এসেছে।
আইনি ও শাস্তিমূলক প্রেক্ষাপট :
সরকারি কর্মকর্তার আচরণবিধি অনুযায়ী,সরকারি অফিসে ব্যক্তিগত উদযাপন বা ফেসবুকে অফিসের ছবি প্রকাশ নিষিদ্ধ। এমন কর্মকাণ্ড আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।
সম্ভব শাস্তির মধ্যে রয়েছে :
অতীত আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য নোটিশ ও শাস্তিমূলক তদারকি।
অস্থায়ী স্থলচ্যুতি (অফিস থেকে সাময়িক বদলি)।
প্রদত্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি বা কড়া শাস্তি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি এমন আচরণ পুনরাবৃত্তি হয়, তবে ডেপুটি কমান্ড্যান্টকে সরাসরি বরখাস্ত বা উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের মুখোমুখি করা যেতে পারে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ ছোট্ট উদযাপন হিসেবে দেখলেও, অনেকেই এটিকে সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব ও নৈতিকতার অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ডিআইজি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি।
ডেপুটি কমান্ড্যান্ট সুব্রত কুমার বালার জন্মদিন উদযাপন শুধুমাত্র সামাজিক বিতর্ক নয়, এটি সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘন ও শিষ্টাচারের প্রতি অবহেলার প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।
You must be logged in to post a comment.